ডাইভারটিকুলোসিস (Diverticulosis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

কোলন বা বৃহদান্ত্রের প্রাচীরে ডাইভারটিকুলা হলে সেই অবস্থাকে ডাইভারটিকুলোসিস বলে। থলিগুলোর আকার স্বাভাবিকভাবে ৫ থেকে ১০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়, কখনো কখনো এর চেয়ে বড়ও হয়।

এর কারণে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ৮০ শতাংশ লোকের ক্ষেত্রে ডাইভারকুলোসিস থেকে ডাইভারটিকুলাইটিস হয় না। কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা না গেলে বা স্ক্রিনিং টেস্ট ছাড়া এই সমস্যা নির্ণয় করা যায় না।   


কারণ

সঠিক কি কারণে ডাইভারটিকুলা হয় তার কারণ এখন পর্যন্ত অজানা। তবে, চিকিৎসকদের মতে, কোলনের অভ্যন্তরীণ প্রাচীরে কোন দুর্বল অংশে চাপ পড়লে সেই স্থানে ডাইভারটিকুলা সৃষ্টি হয়।

সাধারণত, উচ্চ মাত্রায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার মল তৈরী ও মলত্যাগে সহায়তা করে। খাবারে আঁশের পরিমাণ কম থাকলে মলের পরিমাণ কম হয়, তা শক্ত হয়ে যায়, মলত্যাগে দীর্ঘসময় লাগে এবং এসময়ে কোলনে অনেক চাপ পড়ে। যখনই কোলনের ভিতরের দেয়ালের দুর্বল অংশে (যেখানে রক্তনালী অন্ত্রের পেশিময় প্রাচীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অন্ত্রের অভ্যন্তরীণ প্রাচীরে রক্ত সরবরাহ করে) এই চাপ পড়ে সে স্থানে ডাইভারটিকুলা সৃষ্টি হয়।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো হলোঃ

  • দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ কম থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, এর কারণে মলত্যাগের সময় কোলনের উপর চাপ পড়ে, এতে করে ডাইভারটিকুলোসিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • যাদের বয়স ৬০ এর বেশি তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

তবে অজানা কোন কারণে উন্নত বা শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ডাইভারটিকুলার ডিজিজ বেশি দেখা যায়। ডাইভারটিকুলায় মল বা ব্যাকটেরিয়াম আটকে গেলে এতে জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ হয়, এই সমস্যাকে ডাইভারটিকুলাইটিস বলে।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ ডাইভারটিকুলার ডিজিজ থেকে কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে, এ সময় কোলন ক্যান্সারের মত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ক্যান্সার ও ডাইভারটিকুলা একই রকম মনে হয়। কোলন ক্যান্সার হয়েছে কিনা তা কোলনস্কপির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে ক্যান্সার না হলে, কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যে চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয় এক্ষেত্রেও সেটা করতে হবে।      

উত্তরঃ ডাইভারটিকুলাইটিস কোন বংশগত রোগ নয়। মুলত অভ্যাসের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। যাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে ও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে তাদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও বয়স্কদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে, বংশগত দিক দিয়ে বিচার করলে কোলাজেন ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডাইভারটিকুলাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।  

হেলথ টিপস্‌

ডাইভারটিকুলার ডিজিজ প্রতিরোধ করতে বা এর কারণে সৃষ্ট জটিলতা এড়াতে মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখতে হবে।

  • নিয়মিত মলত্যাগ করতে হবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • অধিক পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করতে হবে।
  • নিয়ম মত বিশ্রাম নিতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)