ডাইভারটিকুলাইটিস (Diverticulitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ডাইভারটিকুলা হলো ক্ষুদ্র, ফোলা থলির ন্যায় অংশ যা পরিপাকতন্ত্রের প্রাচীরে হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত কোলন বা বৃহদান্ত্রের নিচের দিকের অংশে দেখা যায়। যাদের বয়স ৪০ এর বেশি, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায় এবং খুব কম ক্ষেত্রেই এর কারণে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হয়।

তবে কখনো কখনো এক বা একাধিক পাউচ বা থলিতে ইনফেকশন এবং ইনফ্লামেশন বা জ্বালাপোড়া হয়। তখন এই অবস্থাকে ডাইভারটিকুলাইটিস বলে। এর কারণে তলপেটে তীব্র ব্যথা, জ্বর, বমি বমিভাব হয় ও মলত্যাগের স্বাভাবিক নিয়ম বা অভ্যাসে পরিবর্তন আসে।

এই রোগের প্রাথমিক অবস্থায় বিশ্রাম, খাবারের নিয়মের বিভিন্ন পরিবর্তন ও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ সহ কিছু পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে এই রোগ মারাত্নক রুপ ধারণ করলে বা বারবার হলে অবশ্যই সার্জারী বা অপারেশন করতে হবে।


কারণ

কোলনের দুর্বল অংশে চাপ পড়লে সেখানে মার্বেল আকৃতির ডাইভারটিকুলা সৃষ্টি হয়। ইনফ্লামেশন বা ইনফেকশন বা উভয়ের কারণে ডাইভারটিকুলা ফেটে গেলে ডাইভারটিকুলাস হয়ে থাকে। 

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  • বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
  • স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
  • ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে।
  • শারীরিক পরিশ্রম কম হলে।
  • খাবারে প্রাণীজ চর্বির পরিমাণ বেশি ও ফাইবারের পরিমাণ কম থাকলে।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ যেমন-স্টেরয়েড, ঘুমের ঔষধ, ব্যথানাশক ঔষধ যেমন-ইবিউপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন গ্রহণ।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুম কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ ডাইভারটিকুলাইটিস কোন বংশগত রোগ নয়। মুলত অভ্যাসের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। যাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে ও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে তাদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও বয়স্কদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে, বংশগত দিক দিয়ে বিচার করলে কোলাজেন ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডাইভারটিকুলাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।  

উত্তরঃ এই রোগে আক্রান্ত হলে কি কি খেতে হবে তা নিয়ে কিছু ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। যেমন- এই অবস্থায় দানাদার জাতীয় খাবার ও পপকর্ন খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। 

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করতে হবেঃ

  • নিয়মিত অনুশীলন করলে অন্ত্রের কার্যকারীতা স্বাভাবিক থাকে তাই, প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে।
  • ফলমূল, শাকসবজি, শস্য দানা সহ যে সব খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে সে সব খেতে হবে, এতে করে অন্ত্রের সুস্থতা বজায় থাকে।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মো: হাসান মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা:এম.এস. আরফিন

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর মো: আনিছুর রহমান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

ডা: চঞ্চল কুমার ঘোষ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এ.এস.এম.এ রাইহান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)