সাইটোমেগালোভাইরাস ইনফেকশন (Cytomegalovirus infection)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

সাইটোমেগালোভাইরাস (CMV) এমন একটি ভাইরাস যা কম বেশি সবাইকে সংক্রামিত করতে পারে। এ রোগের তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না, যার কারণে আক্রান্ত হলেও অনেকেই তা বুঝে উঠতে পারেন না। তবে গর্ভাবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

একবার CMV তে আক্রান্ত হওয়ার পর, এই ভাইরাস সারা জীবন শরীরে থেকে যায়। তবে আপনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হলে তা সুপ্ত অবস্থায় বিরাজ করবে।

রক্ত, থুথু, মূত্র, স্রাব এবং মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে এর জীবাণু ছড়াতে পারে। সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ পান করলেও শিশু অসুস্থ হয় না। কিন্তু, গর্ভাবস্থায় যদি এই ইনফেকশন সক্রিয় থাকে সেক্ষেত্রে শিশুর শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।

এই রোগের তেমন উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা না থাকলেও, ঔষধ সেবনের মাধ্যমে নবজাতক এবং দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তির অবস্থার উন্নতি সম্ভব।


কারণ

সাইটোমেগালোভাইরাস চিকেন পক্স, হার্পিস সিমপ্লেক্স এবং মনোনিউক্লিওসিসের জন্য দায়ী ভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত। একবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর, সারা জীবন তা শরীরে থেকে যায়, যদিও এরা সব সময় সক্রিয় থাকে না। এটি চক্রাকারে মানুষের শরীরে অবস্থান করে। কিছুদিন এই ভাইরাস সুপ্তাবস্থায় থাকে আবার কিছুদিন পর পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠে। সাধারণত যারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী তাদের শরীরে সুপ্তাকারে থাকে। যখন এরা সক্রিয় হয় তখন আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে এদের জীবাণু বিভিন্ন উপায়ে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করতে পারে। রোগীর বডি ফ্লুইড যেমন রক্ত, থুথু, মূত্র, যোনীস্রাব, চোখের পানি এবং মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। তবে সাধারণ সংস্পর্শ থেকে কোন ক্ষতি হয়না।

যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলোঃ

  •  আক্রান্ত ব্যক্তির বডি ফ্লুইডের সংস্পর্শে আসার পর ঐ হাত দিয়ে চোখ, নাকের ভিতর অথবা মুখে স্পর্শ করলে। মিউকাস মেমব্রেন খুব সহজেই এই ভাইরাস শোষণ করে নেয়,যার কারণে বেশীর ভাগ মানুষের শরীরে এভাবেই এই জীবাণু ছড়িয়ে থাকে।
  •  আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন।
  •  কোনো শিশু এ রোগে আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ পান করলে।
  •  অঙ্গ প্রতিস্থাপন অথবা রক্ত আদান প্রদান করা হলে।
  •  আক্রান্ত মায়ের প্লাসেন্টার মাধ্যমে অথবা প্রসবের সময় নবজাতকের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •  শিশুদের দেখাশোনাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্কুলে এই রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  •  দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা যেমনঃ
  •  অঙ্গ প্রতিস্থাপন
  •  সাম্প্রতিক কিমোথেরাপী নিচ্ছেন এমন ব্যক্তি
  •  এইচ-আই-ভি/এইডস এ আক্রান্ত ব্যক্তি

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। পুরুষদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ, কৃষ্ণাঙ্গদের ২ গুণ, হিস্প্যানিকদের ৩ গুণ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে ৯ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ সাধারণত যে সকল মায়ের একটি সন্তান কঞ্জেনিটাল CMV তে আক্রান্ত হয় তাদের ভবিষ্যতে অন্য কোন সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। কারণ ততদিনে মায়ের শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকারী হয়ে উঠে। তবে কোন কোন মায়ের কঞ্জেনিটাল CMV এ আক্রান্ত একাধিক শিশু জন্ম দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। 

উত্তরঃ যখন CMVএর কারণে প্রথমবারের মত ইনফেকশন হয় তখন তাকে প্রাইমারী ইনফেকশন বলে। অন্যান্য ইনফেকশনের মত এই ইনফেকশনের বিরুদ্ধে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অ্যান্টি বডি এবং ইমিউন সেল গঠন করার মাধ্যমে লড়াই করতে শুরু করে। শরীরে সক্রিয় ইনফেকশন থাকলে বডি ফ্লুইডস্‌ এর মাধ্যমে CMV শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। ইনফেকশনের পরেও এই ভাইরাস সারা জীবন শরীরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে। পাশাপাশি CMV অ্যান্টিবডিও সারা জীবন এর বিরুদ্ধে কাজ করতে থাকে। এই পরিবারের অন্য কোন ভাইরাসের কারণেও CMV পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে (একটি নতুন ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে)। এই ধরনের ইনফেকশনগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে এবং যে কোন সময় দেখা দিতে পারে। তবে বিশেষ করে যখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হয়ে পড়ে তখন এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইনফেকশন পুনরায় দেখা দিলে CMV অ্যান্টিবডির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তখন ভাইরাসগুলো নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। 

হেলথ টিপস্‌

এই রোগ থেকে দূরে থাকার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। স্বাস্থ্যকর্মীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকলেও পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য তারা এর হাত থেকে রক্ষা পান।

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলোঃ

  •   নিয়মিত হাত পরিষ্কার করুনঃ কোন কিছু ধরার পর বিশেষ করে বাচ্চাদের ডায়পার, লালা এবং মুখের অন্যান্য নিঃসরণের সংস্পর্শে আসার পর সাবান এবং পানি দিয়ে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। শিশুদের এই ব্যাপারে বেশি সতর্ক হতে হবে।
  •   শিশুকে আদর করার সময় ওদের চোখের পানি এবং লালা থেকে দূরে থাকুন। বিশেষ করে আপনি যখন গর্ভবতী।
  •   একে অন্যের খাবার অথবা পানি পান করা এবং রান্না ঘরের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
  •   ব্যবহৃত জিনিসপত্র ফেলে দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবেঃ শিশুদের ব্যবহৃত ডায়াপার, টিসু এবং অন্যান্য বস্তু যাতে বডি ফ্লুইডস্‌ আছে সেগুলো সতর্কতার সাথে ফেলতে হবে যেন হাতের সংস্পর্শ না লাগে এবং এরপর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলুন।
  •   শিশুর মূত্র এবং থুথুর সংস্পর্শে আসা যে কোন বস্তু বা আসবাবপত্র পরিষ্কার করে ফেলুন।
  •   যৌন মিলনের সময় কন্ডম ব্যবহার করুন।

গর্ভাবস্থায় মাকে একটি পরীক্ষামূলক প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয় যা মা এবং গর্ভের শিশুকে এই ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও শারীরিক বিকলাঙ্গতা নিয়ে শিশু জন্মের সম্ভাবনাও কমে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে এক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ ব্যবহার করা যায়।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)