করোনারী অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Coronary atherosclerosis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

করোনারী আর্টারী আমাদের শরীরের প্রধান রক্ত নালীগুলোর মধ্যে একটি যা হৃৎপিণ্ডে রক্ত, অক্সিজেন এবং পুষ্টিকর উপাদান সরবরাহ করে। যখন এটা কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অথবা কোন রোগ দেখা যায় তখন তাকে করোনারী আর্টারী ডিজিজ বলা হয়। এই রোগ হলে আর্টারী বা ধমনীতে কোলেস্টেরল (প্লাক) জমা হয় এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয়। প্লাক জমা হলে তা করোনারী আর্টারীকে সংকীর্ণ করে দেয় এবং হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবাহের গতি কমিয়ে দেয়। এর ফলে বুকে ব্যথা (অ্যাঞ্জাইনা), শ্বাস কষ্ট হওয়া অথবা অন্যান্য করোনারী আর্টারী ডিজিজের লক্ষণ এবং উপসর্গ প্রকাশ পায়। আর্টারী সম্পূর্ণভাবে ব্লক হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে করোনারী আর্টারী ডিজিজ কয়েক বছর ধরে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাক না হওয়া পর্যন্ত তা ধরা পড়েনা। কিন্তু এই রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক কিছু করনীয় আছে। একটি সুস্থ জীবনধারা মেনে চলার মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। 

কারণ

করোনারী আর্টারীর অভ্যন্তরীন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত বা আঘাতের মাধ্যমে এই রোগ শুরু হয়ে থাকে, কখনো কখনো শৈশবকাল থেকেই অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়। যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলোঃ

  •   ধুমপান
  •   উচ্চ রক্তচাপ
  •   কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে
  •   ডায়াবেটিস অথবা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স
  •   বুকে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া, যা ক্যান্সার হলে দেয়া হলে থাকে।
  •   জীবনযাত্রার মান খারাপ হলে।

আর্টারীর অভ্যন্তরীন দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য সেলুলার ওয়েস্ট (কোষীয়বর্জ্য) দিয়ে গঠিত ফ্যাট বা প্লাক জমা হতে শুরু করে। এই অবস্থাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। যদি এই প্লাক ভেঙ্গে যায় বা ছিঁড়ে যায় তাহলে প্লেটলেট নামক রক্তকণিকা জমাট বেঁধে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ঠিক করার চেষ্টা করে। এই জমাট বাঁধা রক্তআর্টারীতে ব্লক সৃষ্টি করলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   বয়সঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে আর্টারী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  •   লিঙ্গঃ সাধারণত পুরুষদের এ রোগ বেশি হয়ে থাকে তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপোজের পর এর ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
  •   পারিবারিক সূত্রঃ পারিবারিক সূত্রে হার্টের সমস্যা থাকলে করোনারী আর্টারী ডিজির হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যদি কারও বাবা অথবা ভাই ৫৫ বছর অথবা মা বা বোনের ৬৫ বছর বয়সের পূর্বেই এই রোগ নির্ণয় হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যাবে।
  •   ধূমপানঃ নিকোটিন রক্তনালীকে সংকুচিত করে দেয় এবং কার্বন মনোক্সাইড এর অভ্যন্তরীন দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মহিলাদের মধ্যে যারা ধূমপান করে না তাদের তুলনায় যারা প্রতিদিন অন্তত ২০ বার ধূমপান করে তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা ৬ গুণ বেশি থাকে এবং পুরুষদের মধ্যে যারা ধূমপান করে না তাদের তুলনায় ধূমপায়ীদের সম্ভাবনা এক্ষেত্রে ৩ গুণ বেশি।
  •   উচ্চ রক্তচাপঃ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্ত চাপ আর্টারী শক্ত এবং মোটা করে দেয়, যার ফলে রক্ত চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে রক্ত প্রবাহের গতি কমিয়ে দেয়।
  •   ডায়াবেটিসঃ ডায়াবেটিস করোনারী আর্টারী ডিজিজের ঝুঁকিবাড়াতে সাহায্য করে। স্থূলতা এবং উচ্চ রক্তচাপ উভয়ই এক্ষেত্রে সমান ভূমিকা পালন করে।  
  •   স্থূলতাঃ অতিরিক্ত ওজন এ রোগের সম্ভাবনা ত্বরান্বিত করে।
  •   পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না করাঃ পর্যাপ্ত পরিশ্রমের অভাবেও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  •   মানসিক চাপ বেড়ে গেলেঃ মানসিক চাপ অনেক সময় আর্টারী ক্ষতিগ্রস্ততার জন্য দায়ী এবং এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে সাহায্য করে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। পুরুষদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ সারা বিশ্বে মহিলাদের মৃত্যুর পিছনে করোনারী আর্টারী ডিজিজ অন্যতম উল্লেখযোগ্য কারণ। বেশির ভাগ মহিলা ক্যান্সার, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ, অ্যালঝেইমার এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনার তুলনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। কিন্তু তারা করোনারী আর্টারী ডিজিজের (CAD) ভয়াবহতাকে অতটা গুরুত্ব দেননা এবং অনেকেই হৃদরোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে অবগত নন। 

হেলথ টিপস্‌

  •   ধূমপান বর্জন করুনঃ ধূমপান এবং ধূমপায়ীদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। এটা যে কোন হৃদরোগ প্রতিরোধের সর্বোৎকৃষ্ট উপায়।
  •   ব্যায়ামঃ শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য অনেক ধরনের ব্যায়াম আছে। এরা কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে কি ধরনের ব্যায়াম আপনার শরীরের জন্য উপকারী তা জানার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন।
  •   স্বাস্থ্যকর খাবার খানঃ স্বাস্থ্যকর খাবার কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  •   ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ পর্যাপ্ত পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ওজন সঠিক রাখতে এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

সহযোগী অধ্যাপক ডা: আবদুল মোমেন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: সৈয়দ আলী আহসান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: সাবিনা হাশেম

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: মোহসিন হোসেইন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: নজরুল ইসলাম

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

ডাঃ কামাল পাশা

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: মো: সাফিউদ্দিন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)