ভাইরাসজনিত কনজাঙ্কটিভাইটিস (Conjunctivitis due to virus)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

কঞ্জাংটিভায় ইনফ্লামেশন হলে তাকে কঞ্জাংটিভাইটিস বা পিঙ্ক আই বা মাড্রাস বলে। চোখের সবচেয়ে বাহিরের এবং চোখের পাতার অভ্যন্তরীন স্তরকে কঞ্জাংটিভা বলা হয়।

যখন কঞ্জাংটিভার ছোট ছোট রক্তনালীগুলোতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় তখন সেগুলো খুব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। যার কারণে চোখের সাদা অংশ তখন লাল বা গোলাপী বর্ণের দেখা যায়। পিঙ্ক আই সাধারণত ব্যাক্টেরিয়া অথবা ভাইরাসজনিত বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা অথবা শিশুদের ক্ষেত্রে অশ্রুনালী সম্পূর্ণভাবে না খোলার কারণে হয়ে থাকে। এই রোগের কারণে জ্বালাপোড়া হতে পারে, তবে এর কারণে দৃষ্টিশক্তির উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে খুব কম দেখা যায়। চিকিৎসার মাধ্যমে এর থেকে সেরে উঠা সম্ভব। এটি একটি সংক্রামক রোগ তাই আশে পাশে অন্য কাউকে আক্রান্ত করার আগেই যত দ্রুত সম্ভব এর চিকিৎসা করা জরুরী।


কারণ

যেসব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলোঃ

  •   অ্যাডিনোভাইরাস
  •   পিকোর্নাভাইরাস যেমন এন্টেরোভাইরাস 70 এবং কক্সাকি ভাইরাস A24
  •   রুবেলা ভাইরাস
  •   রুবিওলা ভাইরাস
  •   হার্পিস ভাইরাস
  •   হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস
  •   ভার্সিলা-জুস্টার ভাইরাস, যা চিকেন পক্স এবং শিঙ্গলস্‌ এর জন্যও দায়ী।
  •   এপ্সটেইন-বার ভাইরাস, এর কারণে ইনফেকশিয়াস মনোনিউক্লিওসিসও হয়ে থাকে।

ভাইরাসজনিত কঞ্জাংটিভাইটিস অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির হাত অথবা অন্য কোন ব্যবহৃত বস্তুর সংস্পর্শে আসলে খুব সহজেই এই ভাইরাস অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত চোখের পানি, ডিসচার্জ, মল অথবা হাঁচি কাশি থেকে এর জীবাণু হাতের সংস্পর্শে আসে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে।
  •   কঞ্জাংটিভাইটিসে আক্রান্ত হয়েছে এমন কারও সংস্পর্শে আসলে।
  •   কন্ট্যান্ট লেন্স ব্যবহার করলে।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ এবংমহিলা উভয়ের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ ৪ সপ্তাহের কম বয়সী শিশু কঞ্জাংটিভাইটিসে আক্রান্ত হলে তাকে নবজাতকের কঞ্জাংটিভাইটিস অথবা অপথ্যালমিয়া নিওন্যাটোরাম বলা হয়। অশ্রুনালী ব্লক হয়ে গেলে এ রোগ হতে পারে, যা চোখ এবং নাকের মধ্যবর্তী স্থানে মৃদু ম্যাসাজ করলে ভালো হয়ে যায়। শিশু জন্মের কয়েকদিনের মধ্যে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ ব্যবহার করলে কেমিক্যাল কঞ্জাংটিভাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা কয়েকদিনের মধ্যে আপনা আপনি সেরে যায়।

নবজাতকদের সংক্রামক বা ইনফেকশিয়াস কঞ্জাংটিভাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা গুরুতর আকার ধারন করতে পারে। কোন মা যদি যৌনবাহিত ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ যেমন- ক্ল্যামাইডিয়া ট্রাকোমাইটিস এবং নাইসেরিয়া গনোরিয়ায় আক্রান্ত থাকে তাহলে সন্তান প্রসবের সময় এই জীবাণু নবজাতকের চোখে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে জন্মের প্রথম ২ সপ্তাহের মধ্যে শিশুর কঞ্জাংটিভাইটিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, পাশাপাশি চোখের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। একইভাবে জেনিটাল এবং ওরাল হার্পিসের জন্য দায়ী ভাইরাস প্রসবের সময় নবজাতকের চোখে প্রবেশ করতে পারে এবং চোখের ক্ষতিসাধন করতে পারে।

 

উত্তরঃ প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ৫ থেকে ৭ দিন পর ভাইরাসজনিত কঞ্জাংটিভাইটিসে আক্রান্ত রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হতে শুরু করে। এই রোগ থেকে সেরে উঠতে ১০ থেকে ১ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। একটি চোখ আক্রান্ত হওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যে অপর চোখও সংক্রমিত হয়ে যায়। সাধারণত উভয় চোখ আক্রান্ত হলে প্রথম চোখের অবস্থা দ্বিতীয় চোখের তুলনায় খারাপ হয় থাকে। 

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলোঃ

  •   নরম কাপড়ের সাহায্যে চোখে ভাপ দেওয়াঃ একটি নরম পাতলা কাপড় পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে এবং জীবাণুমুক্ত করে চোখের পাতা বন্ধ করে আলতো করে মুছতে হবে। সাধারণত ঠাণ্ডা পানির ভাপ দিলে আরাম বেশি পাওয়া যায় তবে কুসুম গরম পানি দিয়েও ভাপ নেওয়া যায়। পিঙ্ক আই যদি এক চোখকে আক্রান্ত করে তাহলে ঐ একই কাপড় দিয়ে অন্য চোখ মোছা যাবে না। এর ফলে অন্য চোখ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
  •   আই ড্রপ ব্যবহারঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এ রোগের নির্দিষ্ট আই ড্রপ ব্যবহার করা যায়, যা লক্ষণ উপশম করতে সাহায্য করে। কিছু কিছু আই ড্রপে অ্যান্টিহিস্টামিন অথবা অন্যান্য উপাদান থাকে যা অ্যালার্জি জনিত কঞ্জাংটিভাইটিস এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহযোগী ভূমিকা পালন করে।
  •   কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার পরিহার করুনঃ চোখ পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ার আগ পর্যন্ত কন্ট্যাক্ট লেন্সের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। কতদিন আপনি লেন্স ব্যবহার করতে পারবেন না তা নির্ভর করবে কি কারণে আপনার কঞ্জাংটিভাইটিস হয়েছে তার উপর। পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এমন লেন্স, ক্লিনিং সল্যুশন এবং লেন্স কেস পরবর্তীতে আবার ব্যবহার করতে পারবেন কিনা সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য এমন লেন্স ব্যবহারে পূর্বে অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ শরফুদ্দিন আহমেদ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

ডাঃ ফেরদৌস আক্তার জলি

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

ডাঃ তারিক রেজা আলী

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস, ডিও, এমএস(চক্ষু) ফেলো (রেটিনা-ভিট্রিয়াস)

ডাঃশাহ-নুর হাসান

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

Fcps,Frcs

প্রফেসর ডা:নজরুল ইসলাম

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)