বাইপোলার ডিজঅর্ডার (Bipolar disorder)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

বাইপোলার ডিজঅর্ডার আবেগজনিত একটি মানসিক রোগ অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে অনেকেই এই সমস্যাটিকে মানসিক রোগ বলে মানতে চান না চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কহীন মানুষতো বটেই, এমনকি অনেক চিকিৎসকদের মধ্যেও এ রোগ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছেবাইপোলার মুড ডিজঅর্ডারএকটি গুরুতর মানসিক রোগবাইশব্দের অর্থ দুই আরপোলারহলো দিক এই রোগের দুটি দিক থাকে একদিকে থাকেডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা’, অপরদিকে থাকেম্যানিককন্ডিশন বা অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস শুনতে খুব সমস্যাদায়ক মনে না হলেও বিষয়টি খুবই গুরুতর প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ সাইক্লোথাইমিয়া নামেও পরিচিত। এর কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে আত্নহত্যার প্রবণতা বেড়ে যায়।

কারণ

যে সকল কারণে বাইপোলার ডিজঅর্ডার হয় সেগুলো হলো:

  • মস্তিষ্কের বিভিন্ন গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। এই পরিবর্তন সঠিক কি ধরনের  সমস্যার সৃষ্টি করে তা এখনো অজানা।
  • মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারের অসামঞ্জস্যতা বা ভারসাম্যহীনতার কারণে এই রোগ হয়।
  • দেহে হরমোনের অসমতার জন্য বাইপোলার ডিজঅর্ডার হয়।
  • কারো বাবা-মা, ভাই-বোনের এই রোগ থাকলে তার এই রোগ হতে পারে।
  • কোনো ধরনের মানসিক চাপ বা আঘাতের কারণেও এই রোগ হতে পারে। 

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে যে বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো হলো: 

  • রক্তের সম্পর্ক আছে এমন কারো এই রোগ থাকা।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
  • ঔষধের অপব্যবহার বা মদ্যপান।
  • বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা, যেমন- খুব কাছের কোনো ব্যক্তির মৃত্যু। 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এই রোগ সাধারণ সর্দি-কাশি বা ক্যান্সারের মত নয়। জন্মগতভাবেই বায়োলজিক্যাল কোন সমস্যা যদি থাকে তবে একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর কিংবা মানসিক চাপ অথবা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টসহ বিভিন্ন ঔষধের অপব্যবহারের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। 

উত্তরঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্মগতভাবেই শিশুদের মধ্যে মুড ডিজরেগুলেশনের সমস্যা থাকে যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়তবে পরিবারের কারো এই রোগ থেকে থাকলে শিশু অবস্থাতেই সন্তানদের এই রোগ হতে পারে। 

উত্তরঃ এই রোগ হলে যতো দ্রুত সম্ভব সাইকিয়াট্রিস্ট এর শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। পাশাপাশি রোগীর ভালোমত খেয়াল রাখতে পারে এমন কাউকে সাথে রাখা যেতে পারে।  

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যাকে এড়িয়ে চলার জন্য দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন- 

  • মদ্যপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত কোন ধরনের ঔষধ গ্রহণ করা যাবে না।
  • এমন মানুষের কাছাকাছি থাকতে হবে যারা সাহস প্রদান ও মানসিকভাবে সহায়তা করতে পারে
  • নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক অনুশীলন করতে হবে।
  • নিয়মিত ঘুমাতে হবে।

 

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মো: ওয়াজিউল আলম চৌধুরী

সাইকিয়াট্রি ( মানসিক) ( Psychiatry)

প্রফেসর ডা: এম.এস.আই. মল্লিক

সাইকিয়াট্রি ( মানসিক) ( Psychiatry)