বিনাইন ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ (লিউকোরিয়া) (Benign vaginal discharge (leukorrhea))

শেয়ার করুন

বর্ণনা

যোনীপথ দিয়ে যে সাদা তরল নির্গত হলে, তাকে বিনাইন ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ বা লিউকোরিয়া বলে। এটি যোনীপথ পরিষ্কার ও সুরক্ষিত রাখে। কারো কারো ক্ষেত্রে বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে মাসিক শুরু হবার আগে ও পরে কয়েকদিন এবং গর্ভাবস্থায় কোন সমস্যা ছাড়া সামান্য সাদা স্রাব স্বাভাবিকভাবেই নির্গত হতে পারে। এই স্রাব কখনো সাদা ও ঘন বা কখনো পানির মত স্বচ্ছ হতে পারে। অল্প পরিমাণে সাদা স্রাব নির্গত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে স্রাব নির্গত হওয়ার পরিমাণ বেশি হলে, দুর্গন্ধ থাকলে, চুলকানি ও ব্যথা হলে বুঝতে হবে অন্য কোন মারাত্নক শারীরিক সমস্যার কারণে এটি দেখা যাচ্ছে। 

কারণ

যে সব কারণে এই সমস্যা বেশি হয় সেগুলো হলোঃ

বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন -

  • মনিলিয়াল ভ্যাজাইনাইটিস, ট্রাইকোমোনাল ভ্যাজাইনাইটিস ও সার্ভিসাইটিস।
  • হরমোনের অসামঞ্জস্যতা।
  • যৌনাঙ্গ নিয়মিত পরিষ্কার না করা।
  • অতিরিক্ত চুলকানির কারণে যৌনাঙ্গে ক্ষত হওয়া।
  • ব্যাকটেরিয়াল ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন।
  • বদহজম।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যতা।
  • অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা।
  • মেনোরেজিয়া।
  • ডায়াবেটিস।
  • মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা।
  • বিশৃংখল জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সব বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো হলোঃ

  •  ডায়াবেটিস।
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকা।
  • দূষিত প্যাড বা টয়লেট টিস্যু ব্যবহার করা।
  • নাইলন ও সিল্কের অন্তর্বাস ব্যবহার করা।
  • মানসিক চাপ।
  • গর্ভাবস্থা ও গর্ভকালীন অবস্থার পরবর্তী সময়।
  • যৌনমিলনের সময় কনডমের ব্যবহার।
  • ইনট্রাইউটেরিন বার্থ কন্ট্রোল ডিভাইস।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি। হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ সব মহিলাদের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে এটি খুব অল্প পরিমাণে নির্গত হয় এবং কারো কারো ক্ষেত্রে এটি প্রতিদিনই অধিক পরিমাণে নির্গত হয়। 

উত্তরঃ জীবনের বেশ কিছু ধাপ যেমন- মাসিকের সময় স্বাভাবিক যোনীস্রাবে পরিবর্তন আসতে পারে। পরিবর্তন আসা খুবই স্বাভাবিক এবং এই পরিবর্তন দ্বারা জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যেমন- ওভ্যুলেশনের সময় স্রাব অধিক ঘন ও অনেক বেশি পরিমাণে নির্গত হয়। যৌন উত্তেজনার সময়ও যোনীস্রাব বেশি পরিমাণে নির্গত হয়ে থাকে। এছাড়াও ভ্যাজাইনাল ইনফেকশনের কারণেও যোনীস্রাবে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। 

হেলথ টিপস্‌

লিউকোরিয়া প্রতিরোধ করার কয়েকটি পন্থা হলঃ

  • সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • আরাম ও স্বস্তিদায়ক অন্তর্বাস পরিধান করতে হবে এবং সময়মত পরিবর্তন করতে হবে।
  • যারা সাঁতার কাটে ও ব্যায়াম করে, তাদের উচিৎ যত দ্রুত সম্ভব ভেজা কাপড় পরিবর্তন করা।
  • মানসিক চাপ কমাতে হবে।
  •  নিয়মিত ঘুমাতে হবে।
  • পেন্টি লাইনার, প্যাড, ট্যাম্পুন, ডুশ ও ফেমিনিন স্প্রে ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • যৌনমিলনের সময় অবশ্যই কনডম ব্যবহার করতে হবে।
  • মল-মূত্র ত্যাগের পর যোনীপথ সামনে থেকে পিছনের দিকে ভালভাবে মুছতে হবে।
  • কোন ধরনের ইনফেকশন থাকলে যৌনসম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মালিহা রশিদ

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

ডাঃ শারমীনা সীদ্দিক

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: জেসমিন আরা বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সায়েবা আক্তার

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

অধ্যাপক ডাঃ সারিয়া তাসনীম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(গাইনী এন্ড অব্‌স), এমএসএমএড(ইংল্যান্ড), ডিআইপি সিইপিআইডি(লন্ডন)

প্রফেসর ডাঃ এস.এফ. নার্গিস

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ শাহেরীন এফ. সিদ্দিকী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সামিনা চৌধুরী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)