এয়ার এমবলিজম (Air embolism)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এয়ার এমবলিজম রোগটি গ্যাস এমবলিজম, বায়ুর বুদবুদের দ্বারা ধমনী অথবা শিরার ব্লকেজ নামেও পরিচিত। সার্জারি (অপারেশন) করার সময় অথবা দুর্ঘটনা থেকে আঘাত লাগার কারণে রক্তনালীসমূহে বাতাস উৎপন্ন হয়। ফুসফুসের টিস্যু ছিড়ে যাওয়ার কারণে এক ধরনের ট্রমাটিক এমবলিজম দেখা যায়। ফুসফুসের টিস্যু ছিড়ে যাওয়ার ফলে বায়ু বা বাতাসের বুদবুদ অ্যালভিওলি (বায়ু থলি) থেকে ফুসফুসের আশেপাশের কৈশিক নাড়ী এবং শিরাতে পৌছে। তারপর এই বাতাসের বুদবুদ গুলো হৃৎপিন্ডে চলে আসে এবং তা যদি হৃৎপিণ্ডে আটকে যায় তাহলে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন দেখা দেয়। মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনের কারণে হৃৎপিন্ডের পেশীর টিস্যু নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে বাতাস মস্তিস্কে  ঢুকে পরে। মস্তিস্কের যে নালীগুলো রক্ত সরবরাহ করে সেগুলোতে ব্লকেজ দেখা দিলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়। যদি অন্তত ৫ মিনিট যাবৎ এই রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাহলে নার্ভ বা স্নায়ু টিস্যু অক্সিজেন এবং পুষ্টির অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই সমস্যার ফলে শরীরে ঝাকুনি বা খিচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এই সমস্যাটি প্রধানত এমন সাতারু যারা পানির অনেক গভীরে সাঁতার কাটে তাদের হয়ে থাকে। 

কারণ

যখন ধমনী খোলা/উন্মুক্ত থাকে এবং এতে চাপের তারতম্য দেখা দেয় তখন রক্তনালীর ভিতরে বায়ু প্রবেশ করে। অ্যাটমসফেরিক প্রেসারের (বায়ুমণ্ডলীয় চাপ) তুলনায় অধিকাংশ ধমনী এবং শিরার চাপ বেশি গুরুতর। অ্যাটমসফেরিক প্রেসার হল এক ধরনের এয়ার এম্বলাস (ধমনীকে বাঁধা দানকারী এক ধরনের রক্তপিণ্ড) ধমনী ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সবসময় এয়ার এম্বলাস দেখা যায় না।                                                                     

ডুবুরি যখন পানির নিচে সংকুচিত বাতাসে শ্বাস নেয় এবং পানির কিনারায় দ্রুত আসার সময় শ্বাস বন্ধ করে রাখে তখন সামান্য এক মিটার পানির নিচেও এয়ার এমবলিজম হতে পারে।                                                 

ফুসফুসে ট্রমার কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোগীকে ভেনটিলেটরে রাখার পরে তার ক্ষতিগ্রস্থ শিরা বা ধমনীতে বাতাস ঢুকানোর ফলে এয়ার এমবলিজমের সৃষ্টি হয়এর ফলে রোগীর হঠাৎ মৃত্যু ঘটতে পারে।                                                                        

ধমনীর সার্জারি অথবা দীর্ঘ সময় ধরে রক্তদান করার সময় যদি ভুল করে ইনজেকশনের মাধ্যমে ধমনীতে অতিমাত্রায় বাতাস প্রবেশ করে তাহলে মাঝে মাঝে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। 

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এয়ার এমবলিজমের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিম্নে দেওয়া হলঃ

  • ৪০ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তি
  • ঠান্ডা পানিতে সাঁতার
  • পানিতে ডুব বা ঝাপ দেয়ার পরে ব্যয়াম
  • পানির নিচে শারীরিক পরিশ্রম
  • স্থুলতা (অধিক ওজন)
  • ধুমপান          

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম

জাতিঃ শেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩ গুণ বেশি।    

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এয়ার এমবলিজম একটি বিরল ধরনের রোগ। যদি এই সমস্যাটি মারাত্মক আকার ধারন করে তাহলে ব্যক্তি কয়েক মিনিটের মধ্যে মারা যেতে পারে। কোনো প্রকার লক্ষন ছাড়াই এই রোগটি দেখা দিতে পারে এবং সেক্ষেত্রে এয়ার এমবলিজম দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

উত্তরঃ হাইপারবরিক অক্সিজেন থেরাপি ডিকমপ্রেশন রোগে আক্রান্ত ডুবুরিদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। দ্রুত পানির উপরিভাগে উঠে আসার সময় তাদের শরীর থেকে নাইট্রোজেন বের হয়ে যায়। যার কারণে ডিকমপ্রেশন দেখা দেয়।                                                                                                        

হাইপারবরিক অক্সিজেন থেরাপির মাধ্যমে নাইট্রোজেন বাবলের (বুদবুদ) আকার ছোট হয়ে যায়। যার ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।                                    

উত্তরঃ হাইপারবরিক অক্সিজেন থেরাপির কারণে রোগী কানের ভিতরে অতিমাত্রায় শব্দ অনুভব করে। তবে এই ধরনের অনুভূতি বেশি সময় থাকে না। অন্য যে কোনো ধরনের চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হাইপারবরিক অক্সিজেন থেরাপির পার্শপ্রতিক্রিয়া কম থাকে এবং আপনার চিকিৎসক চিকিৎসার পূর্বে আপনার সাথে এই থেরাপির পার্শপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করবেন।                                                                                                                                                           

হেলথ টিপস্‌

গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করার মাধ্যমে অধিকাংশ এম্বলিজম প্রতিরোধ করা সম্ভব। পানিতে ধীরে ধীরে ডুব দিতে হবে এবং ধীরে ধীরে উঠতে হবে। গভীর পানিতে বেশি সময় ডুব দিয়ে থাকা উচি নয়। গাড়ি চালানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আকাশ পথে ভ্রমন করবেন না। গাড়ি চালানোর পূর্বে অ্যালকোহল পান করবেন না। গাড়ি চালানোর পর গরম পানি দিয়ে গোসল করা ঠিক নয়। গাড়ি চালানোর আগে চালককে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির গাড়ি চালানো ঠিক নয়। যে সকল ডায়বেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি ইনসুলিন নিয়ে থাকেন গাড়ি চালানোর সময় গাড়ি চালানোর সময় তাদেরকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                    

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

প্রফেসর ডা: মো: আজিজুল কাহ্হার

ইন্টারনাল মেডিসিন ( Internal Medicine)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি