বেদানা (বিচিসহ) এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

বেদানা (বিচিসহ)

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
বদহজম (Indigestion)

বেদানার রস এনজাইমের সাথে সাথে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান নিঃসরণ করে, যা হজমে সাহায্য করে।পাইলস, বমি ভাব, আমাশয়, অন্ত্রের পরজীবি সংক্রমন, ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। পায়খানা নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও বেদানার রস ব্যবহার করা হয়। 

ক্রনিক কন্সটিপেশন/ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য (Chronic constipation)

বেদানার রস এনজাইমের সাথে সাথে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান নিঃসরণ করে, যা হজমে সাহায্য করে।পাইলস, বমি ভাব, আমাশয়, অন্ত্রের পরজীবি সংক্রমন, ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। পায়খানা নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও বেদানার রস ব্যবহার করা হয়। 

রক্তস্বল্পতা (Anemia)

বেদানাতে থাকা উচ্চ পরিমানে আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা রোগ সারাতে  সাহায্য করে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)

ফ্লাভোনয়েডস (এক ধরণের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট) যা বেদানাতে পাওয়া যায় এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিস এর চিকিৎসায় এটা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা অস্টিওআর্থ্রাইটিস তখনই ঘটে যখন অস্থিসন্ধির মধ্যে কার্টিলেজ (cartilage) নিচের দিকে চলে আসে তখনই অস্থিসন্ধি শক্ত ও ব্যথা অনুভব হয় গবেষকরা মনে করেন, ফ্ল্যাভোনয়েডস প্রদাহ রোধ করে যা কার্টিলেজ (cartilage) নষ্ট করে টেস্টটিউবের মধ্যে এই পরীক্ষা করে দেখা যায় বেদানার রস/নির্জাস এক ধরণের এনজাইম সৃষ্টিতে বাঁধা দেয় যা কার্টিলেজ (cartilage) ধ্বংস করতে সাহায্য করে

উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure)

বেদানাতে আছে উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।টেস্টটিউব অথবা প্রাণীদের উপরে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালিয়ে যতটুকু পাওয়া যায় তা আসলেই খুবই কম। বেদানার রস এল ডি এল কোলেস্টেরলকে (LDL cholesterol) ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে কিছু কিছু গবেষক মনে করেন, এল ডি এল কোলেস্টেরলের ক্ষতির কারণে ধমনীতে প্লাগ (plaque) এর উৎপত্তি হতে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ইঁদুরের উপরে একটি গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়, বেদানার রস প্লাগ তৈরি হওয়ার গতি কমিয়ে দেয় মানুষদের ওপরে কিছু পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায় বেদানার রস তাদের শরীরে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং ধমনীকে ভালো রাখে বেদানা নিয়ে আরও কিছু প্রাথমিক ধারণা প্রচলিত আছে যেমন, প্রতিদিন বেদানার রস পান করলে সিস্টোলিক (systolic blood pressure) রক্তচাপ কমে যায়।

কিডনী ডিজিজ

বেদানাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলো ডায়ালাইসিস সম্বন্ধীয় ইনফেকশন অথবা কিডনি ডিজিজ এবং কার্ডিওভাস্কুলার সংক্রান্ত জটিলতা থেকে শরীরকে রক্ষা করে। ২০১০ সালে আমেরিকান সোসাইটি অফ নেফ্রোলজি (American Society of Nephrology) এর বার্ষিক সভাতে আলোচনা স্বপক্ষে এটা বলা হয় যে, বেদানার রসের মধ্যে এক ধরণের পটাশিয়াম পাওয়া যায় যা কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস সম্বন্ধীয় জটিলতা এবং তাদের অসুস্থতার হার অনেকাংশে কমাতে সক্ষম। 

হৃদরোগ

বেদানাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলো ডায়ালাইসিস সম্বন্ধীয় ইনফেকশন অথবা কিডনি ডিজিজ এবং কার্ডিওভাস্কুলার সংক্রান্ত জটিলতা থেকে শরীরকে রক্ষা করে। ২০১০ সালে আমেরিকান সোসাইটি অফ নেফ্রোলজি (American Society of Nephrology) এর বার্ষিক সভাতে আলোচনা স্বপক্ষে এটা বলা হয় যে, বেদানার রসের মধ্যে এক ধরণের পটাশিয়াম পাওয়া যায় যা কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস সম্বন্ধীয় জটিলতা এবং তাদের অসুস্থতার হার অনেকাংশে কমাতে সক্ষম। 

আমাশয়

বেদানার রস এনজাইমের সাথে সাথে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান নিঃসরণ করে, যা হজমে সাহায্য করে।পাইলস, বমি ভাব, আমাশয়, অন্ত্রের পরজীবি সংক্রমন, ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। পায়খানা নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও বেদানার রস ব্যবহার করা হয়। 

ডায়রিয়া বেদানার রস এনজাইমের সাথে সাথে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান নিঃসরণ করে, যা হজমে সাহায্য করে।পাইলস, বমি ভাব, আমাশয়, অন্ত্রের পরজীবি সংক্রমন, ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। পায়খানা নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও বেদানার রস ব্যবহার করা হয়।
প্রদাহ

বেদানাতে উচ্চ পরিমানে ভিটামিন সি প্রদাহ বিরোধী উপাদান আছে যা অ্যাজমা, গলা ব্যাথা, কাশি কমাতে সাহায্য করে। 

ক্যান্সার

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, বেদানার রসে উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা বিভিন্ন ধরণের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বেশির ভাগ গবেষণায়ই দেখা যায়, বেদানার রস মূলত প্রস্টেট, ব্রেস্ট, কোলন ও ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে বেদানার রসে অনেক ধরণের উপাদান থাকে যা ক্যানসার আক্রান্ত সেলগুলো বাড়তে দেয় না। দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্যানসার সেলগুলো রক্ষা করতে পারে, বেদানাতে থাকা অ্যালাজিটেনিনস (ellagitannins) খুব ভালো কাজ করে গবেষণায় আরোও দেখা যায়, এটা টিউমারে রক্ত সরবারহ কমিয়ে দেয়, যার ফলে ক্যানসারের সেলগুলো বৃদ্ধিতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অনকোলজি (International Journal of Oncology) ২০০৮ সালে এই গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইঁদুরের শরীরে মানুষের প্রস্টেট ক্যানসারের টিকা দেওয়ার পরে পরীক্ষামুলক ঔষধ হিসেবে বেদানার রস/নির্যাস গ্রহণ করানোর মাধ্যমে ৪ সপ্তাহ চিকিৎসা করানো হয় ফলাফলস্বরূপ দেখা যায়, টিউমারের আকার এবং ঘনত্বের উল্লেখজনকভাবে হ্রাস ঘটেছে বিখ্যাত স্বাস্থ্য সংস্থা যেমন, আমেরিকান ইন্সটিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ (American Institute for Cancer Research)এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে যে, এইসব পরীক্ষা অবশ্যই টেস্টটিউবে অথবা প্রাণীদের ওপরে করা হয়।

গর্ভাবস্থা

গর্ভাবস্থায় বেদানার রস পান করা বেশ উপকারী ‘আমেরিকান জার্নাল অফ ফিজিওলজি, এন্ডোক্রিনলোজি এবং মেটাবোলিসমজার্নালে যেটা ২০১২ সালের মে মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় বেদানার রস পান করলে প্লাসেন্টা (গর্ভের ফুল) ক্ষতিগ্রস্ত হবার ঝুঁকি কমায়। বেদানার রসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্লাসেন্টা সেলকে ফ্রি র্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে ২০০৫ সালে প্রকাশিত জুন মাসেরপেডিয়াট্রিক রিসার্চঅনুসারে বলা যায়, বেদানার রস শিশুর মস্তিষ্ককেও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  পলিফেনলস (polyphenols)বলা হয় যা বেদানার রসে থাকে জন্মের সময় অক্সিজেনের কমতি হবার কারণে মস্তিষ্কে যে ধরণের ক্ষতি হয় সেটা কমাতে এই পলিফেনলস সাহায্য করে

যার জন্য অপকারি কারণ
ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে,চুলকনি, গলা বা ঠোঁটে প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রোগ হতে পারে।

বেদানা স্বাভাবিক পরিমাণে গ্রহণ করলে এটা শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। কিন্তু বেদানা বা বেদানার রস  অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এর ফলে যাদের স্পর্শকাতরতা রয়েছে তারা অধিক পরিমাণে বেদানা গ্রহণ করলে চুলকনি, গলা বা ঠোঁটে প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রোগ হতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।  

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ১ পিস

ক্যালরি: ৮৩ কিলোক্যালরি

  • শর্করা: ১৮.৭ গ্রাম
  • ফ্যাট: ১.১৭ গ্রাম
  • প্রোটিন: ১.৬৭ গ্রাম
  • পানি: ৭৭.৯৩ গ্রাম

খাদ্য পুষ্টি

  • সুগার: ১৩.৬৭ গ্রাম
  • আঁশ: ৪ গ্রাম
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.১২ গ্রাম
  • হেক্সাডেকানয়িক এসিড: ০.০৭ গ্রাম
  • অক্টাডেকানয়িক এসিড: ০.০৩৮ গ্রাম
  • টেট্রাডেকানয়িক এসিড: ০.০০৬ গ্রাম
  • মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০৯৩ গ্রাম
  • ইকোসিনয়িক এসিড: ০.০০৪ গ্রাম
  • হেক্সাডেসিনয়িক: ০.০১২ গ্রাম
  • অক্টাডেসিনয়িক এসিড: ০.০৭৭ গ্রাম
  • পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০৭৯ গ্রাম
  • অক্টাডেকাডিইনয়িক এসিড: ০.০৭৯ গ্রাম
  • ডোডেক্যানয়িক এসিড: ০.০০৬ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-১ (থায়ামিন): ০.০৬৭ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-২ (রিবোফ্ল্যাভিন): ০.০৫৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৩ (নায়াসিন): ০.২৯৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৫ (প্যান্টোথিনিক এসিড): ০.৩৭৭ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৬: ০.০৭৫ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- সি: ১০.২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- ই: ০.৬ মিলিগ্রাম
  • টোকোফেরলস: ০.৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- কে: ১৬.৪ মাইক্রোগ্রাম
  • কোলিন: ৭.৬ মিলিগ্রাম
  • ফোলেট: ৩৮ মাইক্রোগ্রাম
  • সোডিয়াম: ৩ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম (K): ২৩৬ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ১০ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ৩৬ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ১২ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ০.৩ মিলিগ্রাম
  • জিংক (Zn): ০.৩৫ মিলিগ্রাম
  • সেলেনিয়াম (Se): ০.৫ মাইক্রোগ্রাম
  • তামা (Cu): ০.১৫৮ মিলিগ্রাম
  • ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ০.১১৯ মিলিগ্রাম
  • অ্যাশ: ০.৫৩ গ্রাম
  • বিটা-সাইটোস্টেরল: ৪ মিলিগ্রাম
  • ক্যাম্পেস্টেরল: ১ মিলিগ্রাম